
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান। সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ২৩ জন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের প্রথম দিন রোববার মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। সোমবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনসংযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-তে বাংলাদেশের যোগদানের আবেদনেও মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে ২৬ জুন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে একই দিন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :