প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তির সম্ভাবনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তির সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২১ জুন) বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। এরপর সোমবার (২২ জুন) চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফরে যাবেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া ও চীন—দুই সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন বা সামার দাভোস ফোরামে অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যের এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।