
রাজধানীর আদাবরে বিকাশ এজেন্টের দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তসির (৩০) এবং মো. তরিকুল ইসলাম (২৫)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে র্যাব-২-এর সিপিএসসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহতামিম হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সদস্য আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রুপের বাকি সদস্যদের আটক এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আদাবরের একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ‘কবজি কাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সদস্যরা। পরে তারা নগদ তিন লাখ টাকা এবং বিকাশের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দোকান খোলার কিছুক্ষণ পরই ৪ থেকে ৫ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা শফিকুল ইসলামের ডান হাতে কোপ দেয় এবং দোকান থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালায় আদাবর থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ‘কবজি কাটা আনোয়ার’ গ্রুপের কয়েকজন সদস্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হলে টানা আমির ও চোরা রুবেল নামে দুই সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :