বাঙালি মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বাঙালি মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

কোনো ধরনের মৌলিক বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এমন কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রবেশ ঠেকানোর কারণে দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘শূন্য রেখা’ এলাকায় বহু পরিবার আটকা পড়ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফের অন্তত ২১টি মানুষকে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এসব ঘটনায় শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘শনাক্ত, মুছে ফেলা ও বহিষ্কার’ নীতির আওতায় শত শত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আটকের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ফিরে যেতে বাধ্য করার দাবি করেছেন তিনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোর মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করে তাদের সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বা আটকে রাখছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মানুষ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সংস্থাটি নয়জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের কয়েকজন জানান, রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা একদল মানুষকে সীমান্তে নিয়ে এসে কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রবেশে বাধা দিলে তারা আবার ভারতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

পঞ্চগড় সীমান্তে এক ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ওই দলটিকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, সীমান্তে আটকে পড়া অনেকের কাছে ভারতের পরিচয়পত্র থাকলেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব ঘটনায় ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং তাদের দেশে ফেরাতে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কাউকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসন হতে হবে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, জাতীয়তা যাই হোক, কোনো মানুষকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা মানবাধিকারের পরিপন্থী। সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।