
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধ রক্ষা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে, যা পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাঁধের কাজের কারণে গ্রামটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি-মাদিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে ভাঙনস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরের খোলপেটুয়া নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ভরা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদিত বালু মহল না থাকায় নদী থেকে ইচ্ছামতো বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রতিটি বস্তায় ২৫০ কেজি বালু ভরার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে পরিমাপ ছাড়াই বালু ভরা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরে বস্তা মাপা হচ্ছে।
এতে করে ঝাপা গ্রামসহ আশপাশের এলাকার ভাঙনঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী থেকে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় একাধিক ইউনিয়ন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, একটি প্রভাবশালী বালু উত্তোলন চক্রের কারণে তারা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
ঝাপা গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে গ্রাম রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :