মে মাসে সড়কে ঝরল ৬২২ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
মে মাসে সড়কে ঝরল ৬২২ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

গত মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৫২ জন। সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ জুন) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত এবং ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭.১৩ শতাংশ এবং আহতের ১৩.২৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। নিহতদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চালক, পথচারী, নারী ও শিশু রয়েছে।

যানবাহনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় মোট ৯৭৫টি যানবাহন চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল, এরপর ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪২.০৮ শতাংশ ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং বাকি দুর্ঘটনা অন্যান্য বিভিন্ন কারণে ঘটেছে। ভৌগোলিকভাবে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ৪৪.৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮.১০ শতাংশ ফিডার সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এবং রেলক্রসিং এলাকাতেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে অপ্রশিক্ষিত যানবাহনের চলাচল, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যান চলাচল, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোসহ নানা অনিয়ম।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১১ দফা সুপারিশও দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক নিরাপত্তা অডিট, ফিটনেস যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।