মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদিত হলো প্রস্তাবিত বাজেট


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদিত হলো প্রস্তাবিত বাজেট

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদনের পর বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাজেট পেশ করা হবে।

এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, বাজেট সংসদে উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করবেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে।

বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মাত্র কয়েকশ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ এখন প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বিস্তারের বড় একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা হচ্ছে।