৫ বছরের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
৫ বছরের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা, ২০২৬–২৭ অর্থবছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এসব পরিকল্পনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”—এই ধারণাকে সামনে রেখে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৩৬টি ইউনিটে ৬০,০৪৮টি পরিবার উপকৃত হয়েছে।

কৃষি খাতে সহায়তার অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৮টি বিভাগে ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে এবং এখন পর্যন্ত ২০,৭৪৮ জন কৃষক কার্ড পেয়েছেন। এছাড়া কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও ভাতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়। দেশের হাজার হাজার মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার কর্মরতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অবকাঠামো ও পরিবেশ খাতে খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আগামী কয়েক বছরে কোটি কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক বিতরণ, কারিগরি শিক্ষায় ফ্রি ওয়াই-ফাই, এবং তরুণদের জন্য শিক্ষা ঋণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রীড়া উন্নয়নে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় খেলার মাঠ উন্নয়ন, ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেপ্যাল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ এবং সফটওয়্যার পার্ক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারপ্রধান আরও জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে পাঁচ লাখ সরকারি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংসদে দেওয়া এ বক্তব্যে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসূচির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।