৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

ফিলিপাইন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত থাকায় ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এখনই সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ কয়েকটি সক্রিয় ভূ-ফাটলে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তার মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প সংঘটিত হলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গবেষণা অনুযায়ী ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। এ তথ্য রাজধানীর ভূমিকম্প ঝুঁকির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে। জরিপে বলা হয়, রাজধানীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত চিহ্নিত করে সেগুলোকে ধাপে ধাপে শক্তিশালী ও নিরাপদ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা, স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও যথাযথ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।