
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাসচালক তারেককে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তার হেফাজত থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে গভীর রাতে ঈদগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়াকাটা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এএসআই আব্দুল খালেকের দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, অভিযানে তারেকের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা এলজি ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযানের ধরন ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারেক দীর্ঘদিন ধরে বাস ও পিকআপচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
গ্রেপ্তার তারেকের স্ত্রী রিনা আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তার স্বামীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের কারণে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে।
রিনা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তার স্বামী নিজ বাড়িতে ছিলেন না, বরং শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাই তার হেফাজত থেকে অস্ত্র উদ্ধারের দাবির সত্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার আগে ও পরে কয়েকজনের যোগাযোগ, কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলা হলেও পরে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা দেখানো হয়েছে। ফলে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং আলামত উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের সদস্যরা বলছেন, মাদকের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার সময় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। একদিকে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে পরিবারের সাজানো মামলার অভিযোগ। ফলে বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল।
আপনার মতামত লিখুন :