
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল জেবদিনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার রেমিট্যান্স কর্মী শফিকুল ইসলামের মরদেহ রবিবার (৭ জুন) সকালে দেশে ফিরে আসে। সকাল ১১টায় তার মরদেহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহবাহী গাড়ি গ্রামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো তাকে দেখতে শত শত মানুষ শফিকুলের বাড়িতে ভিড় জমান।
গত ১১ মে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং বাংলাদেশ দূতাবাস শফিকুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল। কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় আশাশুনির নাহিদুল ইসলাম নামের আরও একজন বাংলাদেশি এবং একজন সিরীয় নাগরিক প্রাণ হারান।
নিহতের পরিবার দুশ্চিন্তায় আছে শফিকুলের দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আফসার আলী ও আজেয়া খাতুন দম্পতির ছেলে শফিকুল প্রবাসে গেলে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার অকাল মৃত্যুর ফলে পরিবারটি দিশেহারা। পরিবার দাবি করেছে, পিতৃহীন দুই কন্যাসন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্য সরকার যেন স্থায়ীভাবে সহায়তা নিশ্চিত করে।
শফিকুলের মরদেহ দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানও নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান জানান, বিমানবন্দরেই নিহতের পরিবারকে জরুরি দাফন ও পরিবহন খরচ হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী দুই ধাপে আরও মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।বর্তমানে শফিকুলের গ্রামের বাড়িতে জানাজার নামাজ ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :