
দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য জাতীয় বাজেটে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শর্তসাপেক্ষে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন চালু রয়েছে। এর ফলে দলগুলো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হয়।
অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা, বিকল্প নীতি প্রণয়ন এবং জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে কার্যকর রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক নিবন্ধিত দল তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়; বরং দুর্যোগকালীন সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার রক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব জানান, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবছর নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় এবং তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার আওতায় থাকে। তাই কঠোর শর্ত, নিরীক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হলে জনগণের অর্থের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকবে না।
তিনি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, “নিবন্ধন প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সব শর্ত পূরণ না করেও কিছু দল নিবন্ধন পেয়েছে—এ ধরনের অনিয়ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে।”
ইয়ারুল ইসলাম বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ জরুরি, তেমনি প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিবন্ধন ব্যবস্থা। তাই শর্তসাপেক্ষ রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
আপনার মতামত লিখুন :