অযত্নে পরিত্যক্ত প্রায় ২০০ বছরের কাইতলা জমিদারবাড়ী, ইতিহাসের স্মৃতি বিলীন হওয়ার পথে


নবীনগর প্রতিনিধি, আবদুল হাদি প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
অযত্নে পরিত্যক্ত প্রায় ২০০ বছরের কাইতলা জমিদারবাড়ী, ইতিহাসের স্মৃতি বিলীন হওয়ার পথে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নূরনগর এলাকার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো কাইতলা জমিদারবাড়ী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। ত্রিপুরার রাজা বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্যের অধিভুক্ত এই জমিদারবাড়ী বর্তমানে পরিত্যক্ত ও সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তপ্রায়। স্থানীয়রা এটি কমরেড জ্যোতি বসুর আত্মীয়দের জমিদার বাড়ি হিসেবেও চেনে। উল্লেখ্য, ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড জ্যোতি বসু ছোটবেলায় এই বাড়িতে এসেছিলেন।

জমিদার অনঙ রায় চৌধুরী বা ‘পটু বাবু’ ছিলেন তাঁর আত্মীয়। জমিদারের নাম ছিল বিশ্বনাথ রায় চৌধূরী এবং তাঁর তিন ছেলে ছিলেন তিলক চন্দ্র, অভয় চন্দ্র ও ঈশান চন্দ্র রায় চৌধূরী। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্বনাথ রায় চৌধূরী পশ্চিমবঙ্গের শিমগাঁও থেকে কাইতলায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। এক সময় জমিদার বাড়ীতে পায়েলের রুমঝুম, সুর-ঝংকার, নূপুরের নিক্কন, বিচারালয়ের ঘন্টাধ্বনী এবং পাইক-পিয়াদায় সরগমের পদচারণা ছিল। তবে আজ এসব প্রাচীন জৌলুস ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

জমিদারের নামানুসারে স্থানীয় অনেক স্থানের নামকরণ করা হয়েছে, যেমন অভয় চন্দ্র রায়ের নামে ‘অভয়নগর’, ঈশান চন্দ্র রায়ের নামে ‘ঈশান নগর’। জমিদারের পুত্র যজ্ঞেশ্বর রায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, যা অত্র এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে যুগের পর যুগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কাইতলায় একটি কলেজও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জমিদারবাড়ীর পাশেই রয়েছে ৪০ একর দীঘি ‘সুখ সাগর’ এবং ‘আন্ধাপুকুর’, যেখানে লোকমুখে কল্পিত স্বর্ণ-রূপার গুপ্তধনের কথা বলা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এবং কুসংস্কারের কারণে এ জলাশয় আজও সংরক্ষিত হয়নি।

কালের বিবর্তনে জমিদারের স্মৃতি চিহ্ন বিলিন হওয়ার পথে। বাড়িটি আজ আর কোলাহলে মুখরিত নয়, বরং নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

কাইতলা আলীম উদ্দিন জুবাইদা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “দুইশো বছরের এই ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ী রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে। এজন্য নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং খোঁজখবর নিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করবেন।