
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে টেকসই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা এবং মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার জবাবে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের হামলার প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক স্থল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই স্থাপনাটি আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা দাবি করেছে যে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুর নাম প্রকাশ করা হয়নি। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে অথবা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের লক্ষ্য করে ইরান তিনটি ড্রোন ছুড়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী ড্রোনগুলো গুলি করে ভূপাতিত করেছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার পরপরই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আবারও বেড়ে গেছে। ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :