আইএলও সম্মেলনে সহসভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আইএলও সম্মেলনে সহসভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান। বৈশ্বিক শ্রমনীতি ও শ্রম অধিকারবিষয়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে তার নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রম অধিকার, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান, আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।

আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে নাহিদা সোবহানের এই নির্বাচন বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শোভন কর্মসংস্থান, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইএলওর গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদারে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এ নির্বাচনের মাধ্যমে আরও দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য রাষ্ট্র, শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তা প্রতিনিধিদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, আইএলওর আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সংস্থাটির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী ফোরাম। ‘বিশ্বের শ্রম সংসদ’ হিসেবে পরিচিত এই সম্মেলনে প্রতিবছর সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বৈশ্বিক শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে আলোচনা করেন। চলতি বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।