এক মাস পর মিলল সন্ধান, সিলেট থেকে উদ্ধার আব্দুল্লাহ ও আফসার 


এনায়েতপুর প্রতিনিধি, ইছাহাক হোসেন  প্রকাশের সময় : জুলাই ১২, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
এক মাস পর মিলল সন্ধান, সিলেট থেকে উদ্ধার আব্দুল্লাহ ও আফসার 

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার খুকনী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশু আব্দুল্লাহ (৮) ও আফসার হোসেন (১০)-এর এক মাস পর সন্ধান মিলেছে। এনায়েতপুর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং অভিযানের মাধ্যমে সিলেট থেকে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আফসার নিজ বাড়িতে ফিরে আসে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দুপুরে খুকনী ইউনিয়নের রহমতখোলা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ এবং আটারদাগ গ্রামের আফসার হোসেন স্কুল শেষে বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পরও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কোনো তথ্য না পেয়ে ১৩ জুন এনায়েতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা।

নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর থেকেই এনায়েতপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য যাচাই, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে যায় পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ৮ জুলাই আফসার নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তারা দুজন প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকায় যায়। পরে সেখান থেকে সিলেটে পৌঁছে একটি হোটেলে কয়েকদিন কাজ করে। কিছুদিন পর আফসার বাড়িতে ফিরে এলেও আব্দুল্লাহ সিলেটেই থেকে যায়।

আফসারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনায়েতপুর থানার এসআই ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সিলেটে অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১১ জুলাই রাতে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুকেই তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। একজন শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অপর শিশুকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দুই শিশুই সুস্থ রয়েছে এবং পরিবারের হেফাজতে আছে।

দীর্ঘ এক মাস পর সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা। তারা এনায়েতপুর থানা পুলিশের সফল অভিযানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এ ঘটনায় এলাকায়ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।