মাদ্রাসার ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর


নুরআমিন, খানসামা উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ৩, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
মাদ্রাসার ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া মালোরপাড় এলাকায় অবস্থিত দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমানের (৩৭) বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আট বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাজ্জাদুর রহমান উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে অবরুদ্ধ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে সন্ধ্যার পর ঘটনাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে খানসামা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) খানসামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাজ্জাদুর রহমানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দিনাজপুরের আদালতে পাঠানো হয়। খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাসেত সরকার বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার পর থেকে দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমি ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, এটি একটি অভিযোগভিত্তিক মামলা। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই তার দায় নির্ধারিত হবে।