কৃষি কল সেন্টারে এক বছরে ৯২ হাজারের বেশি ফোনকল, বাড়ছে কৃষকদের আস্থা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
কৃষি কল সেন্টারে এক বছরে ৯২ হাজারের বেশি ফোনকল, বাড়ছে কৃষকদের আস্থা

কৃষি সংক্রান্ত নানা সমস্যা সমাধানে সরকারের কৃষি কল সেন্টার এখন দেশের কৃষকদের অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। ফসলের রোগবালাই, সার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পদ্ধতি কিংবা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে সরাসরি কৃষিবিদদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন কৃষকরা। গত এক বছরে এ সেবার মাধ্যমে ৯২ হাজারের বেশি ফোনকলের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নের খলিশাডুলী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম হঠাৎ লক্ষ্য করেন, তার ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কী করবেন বুঝতে না পেরে তিনি সরকারের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ নম্বরে ফোন করেন। সেখান থেকে কৃষিবিদদের পরামর্শ নিয়ে তা মাঠে প্রয়োগ করেন এবং সমস্যার সমাধান পান।

একইভাবে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেনও ফসলের সমস্যা নিয়ে কৃষি কল সেন্টারে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে তিনিও উপকৃত হন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে কৃষি কল সেন্টারে মোট ৯২ হাজার ৯৪টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি খাতে ডিজিটাল সেবার প্রতি কৃষকদের বাড়তে থাকা আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৪১টি কল গ্রহণ করা হয়। এরপর মে মাসে ৯ হাজার ৯০৩টি এবং জুনে ৮ হাজার ৫৭৬টি কল আসে। বছরের শুরুতে কলের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও কৃষি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায়। জানুয়ারিতে ৪ হাজার ৯২৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৩১৫টি এবং মার্চে ৬ হাজার ৫৭১টি কল গ্রহণ করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৮ হাজার ৪০টি, আগস্টে ৮ হাজার ৮৯টি, সেপ্টেম্বরে ৮ হাজার ৪১৬টি, অক্টোবরে ৭ হাজার ৪০৯টি, নভেম্বরে ৭ হাজার ৯৮৬টি এবং ডিসেম্বরে ৬ হাজার ৭২২টি কলের উত্তর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৬১২৩ নম্বরে পরিচালিত কৃষি কল সেন্টারে কৃষকরা সরাসরি কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ফসল উৎপাদন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সার ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত এই সেবা বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ঝুঁকি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক এ ধরনের সেবা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, কৃষি কল সেন্টার বর্তমানে কৃষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে, প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবার প্রতি কৃষকদের আস্থা বাড়ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ সেবা আরও সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও সহজে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান বলেন, কৃষি কল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত ও সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার মান আরও উন্নত করতে কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিকল্প নেই। কৃষি কল সেন্টার মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ সেবায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং দক্ষ জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কৃষি কল সেন্টার।