
মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে লেনদেন হচ্ছে রেকর্ড ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েনে। ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিবিসি, সিএনএন ও এএফপিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের অবমূল্যায়ন চললেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধান মুদ্রাটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে ইয়েনের দর স্থিতিশীল রাখতে জাপান সরকার প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয় করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে সেই পদক্ষেপের স্থায়ী সুফল পাওয়া যায়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোমবার (২৯ জুন) কিছুটা শক্তিশালী হয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৬১ দশমিক ৯৩ ইয়েনে উঠেছিল জাপানি মুদ্রা। তবে পরদিনই আবার দরপতন শুরু হয় এবং মঙ্গলবার (৩০ জুন) তা নেমে আসে রেকর্ড ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েনে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জাপান সরকার আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এএফপির বরাতে জানা গেছে, দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা বলেছেন, মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে সরকার যেকোনো কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তার এ বক্তব্যকে নতুন করে বাজারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইয়েনের দরপতনের কারণে জাপানে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
তবে মুদ্রার দুর্বলতার মধ্যেও জাপানের প্রযুক্তি খাত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। শক্তিশালী প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদার কারণে টোকিও শেয়ারবাজারের নিক্কেই সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক আস্থাও গত আট বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
আপনার মতামত লিখুন :