ঘোড়ার গাড়ি ও লাল গালিচায় বাকৃবি অধ্যাপকের রাজকীয় বিদায়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ঘোড়ার গাড়ি ও লাল গালিচায় বাকৃবি অধ্যাপকের রাজকীয় বিদায়

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। প্রিয় এই শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থীরা তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন নিজেই তার বিদায় সংবর্ধনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটি কৃষি অনুষদের অধীনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হতো। শেষ কর্মদিবসে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন বলেন, “এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে যে এতটা ভালোবাসে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।”

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান ক্লাসের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে কারণে তিনি শব্দ না করার অনুরোধ জানান। পরে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাসভবনে পৌঁছে দেয়।

অধ্যাপক বাতেন আরও বলেন, দুপুর ২টার দিকে নিজ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. রেহানা খাতুনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় সহকর্মীরাও আবেগঘন পরিবেশে তাকে বিদায় জানান।

তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সোনালী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “স্যার শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেননি, আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তার হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।”

তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন ছিল অধ্যাপক বাতেনের কর্মময় জীবনের প্রতি শিক্ষার্থীদের গভীর কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তার শিক্ষা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণা শিক্ষার্থীদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে। বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।