যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৪, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশনের (এনএসএফ) মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী। তরুণ গবেষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্মানজনক এই পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তিনি আগামী পাঁচ বছর গবেষণার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের অনুদান পাবেন।

সুমাইয়া সমাজী যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশন প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে।

জানা গেছে, সুমাইয়া সমাজীর বাবা এহসানুল হক সমাজী বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী কর্মজীবনে ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটোরিয়াল উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুমাইয়া সমাজীর গবেষণার মূল বিষয় সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার চিপ, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে। জটিল এই ব্যবস্থায় অনেক সময় পণ্যের প্রকৃত উৎস ও সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তার গবেষণার লক্ষ্য হলো, এমন একটি নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পণ্য ও ব্যক্তির আসল পরিচয় সহজে যাচাই করা যাবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল পণ্য শনাক্ত করা সহজ হবে এবং বড় সরবরাহব্যবস্থায় আস্থা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবার কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই সহকারী অধ্যাপক এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনা মোরাইস সহজে পুনর্ব্যবহার করা যায় না এমন প্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা করছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জিজুন ইয়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।

কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জন বিভিন্ন সময়ে ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশনের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন।