
কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফফানে অবস্থিত বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডের একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং এখনও কমপক্ষে ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিস্ফোরণের বিষয়টি কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রাস লাফফান কাতারের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্বের বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতারের অধিকাংশ এলএনজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন স্থাপনা এই শিল্পশহরে অবস্থিত। বারজান গ্যাস সাপ্লাই লিমিটেডও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কারখানা এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুনের লেলিহান শিখা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ রাজধানী দোহা পর্যন্ত শোনা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতরে নতুন একটি প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। রোববার ওই প্ল্যান্টের কার্যক্রম শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা কাতারের জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :