
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। সাক্ষ্যে তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর পরিচালিত ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এর সময় কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল।
রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস দাবি করেন, অপারেশন রেবেল হান্ট চলাকালে প্রায় ১০ জন বিডিআর সদস্যকে ইনজেকশন প্রয়োগের পর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করেন।
এছাড়া জবানবন্দিতে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায়ও জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় তিনজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। তবে সাক্ষ্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
আপনার মতামত লিখুন :