হরমুজ খুলতে দুই শর্ত দিলো ইরান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
হরমুজ খুলতে দুই শর্ত দিলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে দুটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর করা এবং চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা পর্যন্ত এই নৌপথ খোলা হবে না।

রোববার (২১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অবস্থানে রয়েছে তেহরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে ‘লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠক’ শুরু হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

কাতার জানিয়েছে, এই বৈঠকের লক্ষ্য একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে চলমান সংকটের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।