লিবিয়া উপকূলে ভেসে এল ১৫ অভিবাসীর মরদেহ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
লিবিয়া উপকূলে ভেসে এল ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এসব মরদেহ উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী, নৌবাহিনী ও হাসপাতাল সূত্র।

শনিবার (২০ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, নৌকাডুবি থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১০ জন যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মূলত মিসর সীমান্তসংলগ্ন লিবিয়ার তবরুক শহরের উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলো দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে মারাত্মকভাবে পচে গেছে। এ কারণে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্র থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

তবরুক রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরে পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করছেন। পরে সেগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতনের পর থেকেই লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এদিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির খুমস শহরের উপকূলে পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সমুদ্রে উল্টে যাওয়া নৌকা থেকে ১৩ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ভয়াবহ চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।