
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বর বহাল রাখা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিশেষ প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং ৪১২-আই/২০২৪) অনুযায়ী ভাইভার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রজ্ঞাপনের বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (১)-এর টেবিল অনুযায়ী এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে এবং চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই ১০০ নম্বরের নতুন পদ্ধতিতে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
মো. আব্দুল বারী আরও বলেন, বিশেষ বিসিএস হিসেবে অনুষ্ঠিত ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসেও একই নিয়মে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পরীক্ষা ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’-এর সংশোধিত বিশেষ বিধানের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আসন্ন ৫০তম বিসিএসসহ ভবিষ্যতের সব বিসিএস পরীক্ষাতেও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল থাকবে। সরকারের বিশ্বাস, এ সিদ্ধান্তের ফলে বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিনির্ভরতা কমবে এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, “বিসিএস পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল এবং বৈষম্যহীন করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভাইভার নম্বর কমানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগেরই অংশ।” সংসদে দেওয়া এই তথ্য বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :