স্টারমারের বিদায় নিয়ে চাপ বাড়ছে, ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসছেন বার্নহ্যাম?


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
স্টারমারের বিদায় নিয়ে চাপ বাড়ছে, ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসছেন বার্নহ্যাম?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদ ছাড়ার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লেবার দলের কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রী তাকে দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে লেবার দলের প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় জয়ের পর এই দাবি আরও গতি পেয়েছে। দলের একাংশ এখন বার্নহ্যামকে সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে সরে দাঁড়াবেন না। প্রয়োজন হলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার জন্য লড়াই করবেন।

বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার এবং মন্ত্রী, এমপি ও পরিবারের মতামত শোনার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বার্নহ্যাম ও সম্ভাব্য আরেক নেতা ওয়েস স্ট্রিটিং আপাতত গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বার্নহ্যাম লেবারের ভোটের হার প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে বড় জয় পান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারানোর পর তার সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের দাবিও জোরালো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) স্টারমার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থান ও দলের ভেতরের সমর্থন যাচাই করেন। জানা গেছে, পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার তাকে দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস স্টারমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনেই সরকারকে এগিয়ে নেওয়া উচিত।

এর আগে নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন নেতা স্টারমারকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। স্টারমার দাবি করেছেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব তিনি পালন করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, নেতৃত্বের লড়াই হলে তিনি তাতে অংশ নেবেন এবং দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন না। অন্যদিকে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, তার উপনির্বাচনের জয় ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি দেশকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। লেবার এমপি পিটার সোয়ালো জানিয়েছেন, তার মতে এখন স্টারমারের পদত্যাগের সময় এসেছে এবং তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

তবে স্টারমারের সমর্থকরা বলছেন, দলকে বিভক্ত না করে সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে আগের সরকারের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। লেবার দলের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে কোনো প্রার্থীকে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম এই সমর্থন সহজেই পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান নেতা হিসেবে স্টারমারকে নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোটে অংশ নিতে নতুন করে কোনো এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে না।