কঙ্গোর বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও গুলিস্তান কাঁপাচ্ছেন রোনালদো-ভিতিনহারা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
কঙ্গোর বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও গুলিস্তান কাঁপাচ্ছেন রোনালদো-ভিতিনহারা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে উন্মাদনা। লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোর সমর্থনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উড়তে থাকে নানা দেশের পতাকা। তবে বরাবরের মতো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে এবার বিশেষ আলোচনায় রয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। আর সেই উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর জার্সি ও পতাকার বাজারেও।

বিশ্বকাপ ঘিরে গুলিস্তান মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল পর্তুগাল। শুক্রবার (১৯ জুন) ছুটির দিনে রাজধানীর ব্যস্ততম এই মার্কেটে পর্তুগালের জার্সি ও পতাকা কিনতে ভিড় দেখা যায় ফুটবলপ্রেমীদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা-জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকলেও এবার পর্তুগালের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে কয়েক গুণ। ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের চায়না প্রিন্টের পর্তুগাল পতাকা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। দেশীয় তৈরি পতাকার দাম প্রায় ১৫০ টাকা। তবে অন্য দেশের পতাকায় কিছুটা ছাড় থাকলেও পর্তুগালের ক্ষেত্রে দাম কমাতে চাইছেন না বিক্রেতারা।

রোনালদো ভক্ত সাব্বির আহমেদ বলেন, ছুটির দিনে পর্তুগালের পতাকা কিনতে গুলিস্তানে এসেছেন তিনি। তবে দাম কমানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০ টাকার নিচে পতাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

পতাকা ব্যবসায়ী গফুর আহমেদ বলেন, “আগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চাহিদা বেশি ছিল। এখন পর্তুগালের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। ৫ ফুটের পতাকা ২০০ টাকা এবং বড় আকারের পতাকা ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

শুধু পতাকা নয়, ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় দোকানেও জমজমাট জার্সির বাজার। বিভিন্ন মান ও ডিজাইনের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। আর প্লেয়ার এডিশন বা উন্নত মানের জার্সির জন্য ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

বেশ কয়েকটি দোকানে দেখা গেছে, পর্তুগালের জার্সির মজুত শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী রবিন জানান, তাদের দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পর্তুগালের জার্সি। প্লেয়ার এডিশন জার্সি দেশের বাইরে থেকে আসায় নতুন চালানের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বসেরা মিডফিল্ড, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। যদিও প্রথম ম্যাচে ড্র করায় কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে, তবে ভক্তরা আশা করছেন পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবে পর্তুগাল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে পারেনি পর্তুগাল। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন এবং ২০০৬ সালে চতুর্থ স্থান পাওয়া।

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিওর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমবার অংশ নিয়েই চমক দেখায় পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় তারা। ওই ম্যাচে ইউসেবিও একাই চার গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালে হেরে গেলেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে তৃতীয় হয় পর্তুগাল।

এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে লুইস ফিগো, ডেকো ও তরুণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে আবারও সেমিফাইনালে ওঠে দলটি। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে যায় তারা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির কাছে পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে। ২০২২ বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল পর্তুগাল। এবার রোনালদো-ভিতিনহাদের ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।