রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চায় জাতিসংঘ, ‘না’ করে দিলো বাংলাদেশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চায় জাতিসংঘ, ‘না’ করে দিলো বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের কাছে আরও জমি বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এই আবেদন রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এ সংকটের স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সীমিত সম্পদের ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে চায়। তাই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। ওই বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর নতুন করে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।