পেনশনে বড় সুখবর, বাড়বে আর্থিক সুবিধা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
পেনশনে বড় সুখবর, বাড়বে আর্থিক সুবিধা

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনে সরকার। নতুন কাঠামোয় পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির পরিবর্তন, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানো হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কর্মচারীরা অবসরের পর আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

প্রজ্ঞাপনে ৫ বছর থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে পেনশনের হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সাধারণত বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে। যেমন— চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী অক্ষমতা ঘোষণা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ক্ষেত্রে।

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনেও পরিবর্তন আনা হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

চাকরিকাল কমিয়ে আনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া কোনো কর্মচারী ৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়ার বিধান করা হয়।

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয় পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। একই সঙ্গে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক পেনশনের আওতায় আসার সুযোগ পান। অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় পরিবর্তন ছিল ছুটি নগদায়ন। আগে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়নের সুযোগ থাকলেও নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। এতে অবসরের সময় কর্মচারীরা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়। ওই সময় যারা অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) ছিলেন, তারাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় গত ১১ জুন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও অবসর সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।