
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জুলাই সনদ’-এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যদি আবারও একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যায়, তবে তা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত না হলে অতীতের রাজনৈতিক সংকট পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তার আইনি ভিত্তি ছিল জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণভোটের সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বানের আবেদন জানিয়েছেন।
সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার দাবি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদের শুরুতেই কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদের কার্যকর বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে দেশবাসীর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মঞ্চে দেড় শতাধিক নেতার বসার ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আসন এবং কয়েকশ অতিথির চেয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।
আপনার মতামত লিখুন :