
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটির জন্য ফিফা তাকে প্রধান রেফারি হিসেবে মনোনীত করেছে।
ম্যাচে আমিন ওমরের সঙ্গে থাকবেন দুই সহকারী রেফারি মাহমুদ আবু এলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। এছাড়া চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।
কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত আমিন ওমর ২০১৭ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন। তবে এর আগেই ২০১৩ সাল থেকে মিসরের শীর্ষ ফুটবল লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন তিনি। মাঠে দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং খেলা নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন।
আফ্রিকার অন্যতম বড় ফুটবল আসর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আসরে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন আমিন ওমর। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে এবারই প্রথমবারের মতো মূল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন এই মিসরীয় রেফারি।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই আলোচনায় আসেন আমিন ওমর। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একটি ম্যাচে থ্রো-ইন নিতে দেরি হওয়ায় তিনি ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ প্রয়োগ করে কাউন্টডাউন শুরু করেন, যা ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
এ পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন আমিন ওমর। এসব ম্যাচে তিনি প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সৌদি প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
তবে তার ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত নয়। গত বছর মিসরের ঘরোয়া ফুটবলে একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে পিরামিডস এফসি তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওই বিতর্ক তৈরি হয়।
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে আমিন ওমরের অভিজ্ঞতা, কঠোর রেফারিং এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন ম্যাচের গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আপনার মতামত লিখুন :