অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে এক টেবিলে ওয়াশিংটন ও তেহরান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে এক টেবিলে ওয়াশিংটন ও তেহরান

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে একটি টেকসই চুক্তির লক্ষ্যে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুই পক্ষ একটি আঞ্চলিক সমঝোতার পথ খুঁজতে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। এর আগে দুই দেশের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এতে দুই দেশের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আগেই সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই বৈঠক স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উইটকফের সফর নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েল এখনই সেনা প্রত্যাহার করবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল কয়েক দফা বিমান হামলা চালালেও বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগে চালানো হামলায় ৪৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবাননে সর্বশেষ অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।