৬২টি কোম্পানি নিয়ে ডিএসইর ‘রেড এলার্ট’


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
৬২টি কোম্পানি নিয়ে ডিএসইর ‘রেড এলার্ট’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সম্প্রতি ডিএসই তাদের ওয়েবসাইটে আলাদা দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্ধ ও আর্থিক সংকটে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে জন্য এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে এসব কোম্পানির বিষয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার আগে বিশেষভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি কিছু দুর্বল ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলসসোনারগাঁও টেক্সটাইলস-এর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএসইর প্রকাশিত বন্ধ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলিটেক্স, জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট, হামিদ ফেব্রিকস, খুলনা পাওয়ার, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং, নিউলাইন ক্লথিংসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

তবে সতর্কবার্তা জারির পরও বুধবার (১৭ জুন) এসব কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৩২টি বন্ধ কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস ও নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এদিকে আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নিরীক্ষকেরা। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি বন্ধ কোম্পানির তালিকাতেও রয়েছে। ফলে বন্ধ কোম্পানির বাইরে কার্যত ৩০টি কোম্পানি এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, সানলাইফ ইনস্যুরেন্সসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্বল কোম্পানির ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা দেবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।