
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এবার অংশ নিয়েছে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী। আগামী ২০ জুন জাতীয় সেনা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া আড়াই মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে।
মাহদী আমিন জানান, গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ অতিক্রম করে প্রতিযোগীরা এখন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। আগামীতে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তিনি শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কারের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, শৃঙ্খলাবোধ, সামাজিক আচরণ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বইভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি আনন্দঘন পরিবেশে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা তাত্ত্বিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হবে। অষ্টম শ্রেণি থেকে পরীক্ষাগার স্থাপনের মাধ্যমে এর ব্যবহারিক শিক্ষা শুরু হবে।
মাহদী আমিন জানান, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘উদ্যোক্তা উদ্যোগ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ প্রতিযোগিতায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষকের সমন্বয়ে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। এর চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা শুধু সনদনির্ভর নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, বিতর্ক ও বিজ্ঞানচর্চার মতো কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :