পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগে অবশেষে সরকারি চাকরি হারালেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন। তাকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সর্বশেষ গোলাম সাকলায়েন ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে গত ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি সত্য হলেও তখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দুই দিনের ব্যবধানে সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। ওই চিঠিতে মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বিভিন্ন সময় দিন ও রাতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় তার অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুন মাসে। সাভারের বোট ক্লাবকাণ্ডের পর পরীমণি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তখন তার পরিচয় হয়। তদন্ত চলাকালে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে পরীমণির রাজারবাগে অবস্থিত সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া শেষে ওই অসদাচরণের দায়ে গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।