ঢাকার সব বাস চলবে এক কোম্পানির অধীনে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার সব বাস চলবে এক কোম্পানির অধীনে

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি রুটে বাস মালিকদের সমন্বয়ে একক কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট রুটভিত্তিক বাস পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়েও বাস মালিকরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রুটে বাস চলাচল করবে এবং নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান অনিয়ম বন্ধ করা হবে। একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যা যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ায়।

বাস টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক টার্মিনাল কার্যত মেরামতকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে দিনের পর দিন বাসের রং করা, মেরামত ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের কাজ চলে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে পৃথক ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৩০০ ফুট এলাকায় একটি ডিপো নির্মাণ করা হবে। এছাড়া কাঁচপুরে নির্মিতব্য ডিপো ভবিষ্যতে টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পর্যায়ক্রমে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে এবং গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হবে। মহাখালী বাস টার্মিনালও ভবিষ্যতে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার কাছাকাছি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হবে। ততদিন পর্যন্ত নতুন ডিপোগুলো অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী টার্মিনাল নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে যে অস্থায়ী টার্মিনাল তৈরি হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার সুযোগও বন্ধ করা হবে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।