শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে ব্যাপক কর্মসূচি সরকারের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে ব্যাপক কর্মসূচি সরকারের

দেশের নতুন প্রজন্মকে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার গণ্ডি থেকে বের করে দক্ষ, চিন্তাশীল ও পরিবেশ-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পরিসরের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেজিং’ মহোৎসব। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ কোটি দেশীয় গাছের চারা রোপণের সবুজায়ন কর্মসূচি।

আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দলের বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনী এবং একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিগত বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। কর্মসূচি দুটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান তৈরি সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের অগ্রসৈনিক। তাই তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এতে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি দলে থাকছেন তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক। তিন ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে এই শোকেজিং কর্মসূচি।

ইতোমধ্যে ১২ জুন উপজেলা এবং ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা দলগুলো আগামী ২৭ জুন ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। সেখান থেকে নির্বাচিত ১০০টি দল ২৮ জুন জাতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি, আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষকদের দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ, আর শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা ও যোগ্যতা সনদ।

শুরু হচ্ছে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি

বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে শুরু হচ্ছে বড় পরিসরের বৃক্ষরোপণ অভিযান। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পাঁচ কোটি দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হবে।

লেইস প্রকল্পের আওতায় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে যুক্ত করা হবে। আম, জাম, কাঁঠাল, নিম ও অর্জুনসহ দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী ২৮ জুন দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে। লেইস প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্বোধনের দিন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো হবে। এর মধ্যে থাকবে একটি ফলদ ও একটি বনজ গাছ। পর্যায়ক্রমে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য পূরণ করা হবে।