
ইংল্যান্ডের শেরউড অরণ্যে অবস্থিত কিংবদন্তি রবিন হুডের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত প্রায় ১২০০ বছর পুরোনো ‘মেজর ওক’ গাছটি অবশেষে মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং খরার কারণে গাছটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাখি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব বার্ডস (আরএসপিবি)। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড অরণ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেজর ওক গাছটিতে চলতি বসন্তে কোনো নতুন পাতা গজায়নি। এ কারণে গাছটি কার্যত মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরএসপিবি জানিয়েছে, গত দুই শতাব্দী ধরে লাখো দর্শনার্থীর পদচারণায় গাছটির চারপাশের মাটি অত্যন্ত শক্ত ও চাপা হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলেই ধীরে ধীরে গাছটির জীবনশক্তি ক্ষয় হয়েছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তা হলি ড্রেক বলেন, “এ বছর গাছটিতে নতুন পাতা না গজানো আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা।” লোককাহিনি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ শতাব্দীর কিংবদন্তি দস্যু রবিন হুড নটিংহ্যামের শেরিফের তাড়া খেয়ে শেরউড অরণ্যে আত্মগোপন করতেন এবং মেজর ওক ছিল তার অন্যতম আশ্রয়স্থল। ১৭৯০ সালে মেজর হেইম্যান রুক তার একটি গ্রন্থে গাছটির উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই এটি ‘মেজর ওক’ নামে পরিচিতি পায় এবং পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বছরের পর বছর দর্শনার্থীদের চাপে মাটি কংক্রিটের মতো শক্ত হয়ে যাওয়ায় গাছটির শিকড় পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি পায়নি। একপর্যায়ে শিকড় কার্যত শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় পৌঁছে যায়।
বন সংরক্ষণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান উডল্যান্ড ট্রাস্টের কর্মকর্তা এড পাইন বলেন, মেজর ওকের মতো প্রাচীন গাছ শুধু ঐতিহ্যের অংশ নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু প্রাচীন গাছ প্রয়োজনীয় যত্ন ও সংরক্ষণের অভাবে নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে। মেজর ওকের সম্ভাব্য মৃত্যু শুধু একটি গাছের অবসান নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :