বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ভিয়েতনাম ছিল গতকালের সফলতার গল্প, ইন্দোনেশিয়া আজকের বাস্তবতা, আর বাংলাদেশ হতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সমালোচনার সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনিয়োগকে কীভাবে আরও গতিশীল ও উত্তরণের পথে নেওয়া যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য কর কাঠামোর একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি খাত নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী জুলাই পর্যন্ত জ্বালানি খাতে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে হতে পারে। তবুও সরকার দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক জ্বালানি হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং বাজেট বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।