নতুন প্রধানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পথ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
নতুন প্রধানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পথ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম-এর নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পরই নীতি ও কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৭ জুন) ফেডের প্রথম নীতি বৈঠকের পর টানা চতুর্থবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

তবে বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল চলতি বছরই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হলে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কেভিন ওয়ার্শ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাদা দল কাজ করবে। এসব দলের আলোচনার বিষয় হবে ফেডের যোগাযোগ কৌশল, অর্থের প্রবাহ, তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নীতি।

ওয়ার্শ বলেন, এসব বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ বেশিরভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বৈঠকে ভবিষ্যতের সুদের হার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত জানানো উপযুক্ত নয়। তবে মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে। তার মতে, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে ফেড দৃঢ়ভাবে কাজ করবে।

এদিকে কেভিন ওয়ার্শকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা থেকে তাকে নিয়োগ দিলেও ফেডের বেশিরভাগ নীতিনির্ধারক বর্তমানে সুদের হার বাড়ানো বা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই অবস্থান করছেন। চলতি বছরে মাত্র একজন কর্মকর্তা সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

ফেড জানিয়েছে, জ্বালানি খাত বাদে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ চালু হলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে।

এদিকে ফেডের সদর দপ্তর সংস্কার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেছেন ওয়ার্শ। প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের এ সংস্কার প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে ফেড জানিয়েছে, প্রকল্পের অর্থ সরকারি কর থেকে নয়, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব আয় থেকেই ব্যয় করা হচ্ছে।