
দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গত ২ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গুটি, নাগ ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ নানা জাতের আম উঠতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে কিছুটা মন্দাভাব থাকায় প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক আমচাষি।
জেলা জুড়ে বিস্তীর্ণ আমবাগানে এখন চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যস্ততা থাকলেও বাজারদরের অস্থিরতায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান দামে আম বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী আম উৎপাদনের জন্য ১৮৬ হেক্টর জমিতে বিশেষভাবে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, জমি ইজারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিবহন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আম বাজারে আনতে গড়ে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে প্রতি মণ আম ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়।
বর্তমানে নওগাঁর পাইকারি বাজারে জাতভেদে আম বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় চাষিরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সাপাহার, বদলগাছীসহ বিভিন্ন উপজেলার চাষিরা জানান, গাছে আমের ফলন তুলনামূলক কম এবং বাজারদরও গত বছরের তুলনায় কম। তারা মনে করছেন, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পাইকারি ক্রেতা বাড়লে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো এবং আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী দিনে বাজারে চাহিদা বাড়লে নওগাঁর আম অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আপনার মতামত লিখুন :