
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে একই চুক্তির কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পেজেশকিয়ান ফারসি ভাষায় লেখা একটি নথি হাতে ধরে আছেন। নথিটির নিচের অংশে তার এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রায় ৮০০ শব্দের ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে আরও কার্যকর করা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমাতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যে বিরোধ চলে আসছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তান জানিয়েছে, এই সমঝোতা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। দেশটি আশা করছে, চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানই হবে এই সমঝোতার প্রকৃত সফলতার নির্ধারক।
আপনার মতামত লিখুন :