চট্টগ্রামে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের রোডমার্চ ও বিক্ষোভ ৪ দফা দাবি


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মারুফ প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের রোডমার্চ ও বিক্ষোভ ৪ দফা দাবি

আটকে থাকা আমানত ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহকেরা রোডমার্চ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (গতকাল) দুপুরে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন–চট্টগ্রাম বিভাগ’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হওয়া রোডমার্চটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে অনেক আমানতকারী নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ব্যাংক থেকে তুলতে পারছেন না। এতে হাজারো পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ১০ এপ্রিল জারি হওয়া ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ’-এ সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, বরং এতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমানতকারীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল করে সম্পূর্ণ আমানত ফেরত দেওয়া, ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত চালু করা, চুক্তি অনুযায়ী এফডিআর ও ডিপিএসসহ সব আমানত পরিশোধ এবং পূর্বঘোষিত মুনাফার হার বহাল রাখা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, প্রবাসী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই সংকটে পড়েছেন।

সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসন্ন বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একীভূতকরণের তালিকায় থাকা পাঁচটি ব্যাংক হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার আমানত আটকে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।