
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টিকা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিত পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের কারণে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কারও গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, টিকার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও আক্রান্ত এলাকায় কার্যকর প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হামের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে হামের টিকাদানের হার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সারাদেশে চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশুদের হামের ঝুঁকি কমাতে সময়মতো টিকা গ্রহণ, টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং রোগ শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :