
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এটি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাবে বাজারে দেখা দেয় ব্যাপক অস্থিরতা।
তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাত কমলে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি বাড়াতে পারবে। এতে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দাম আরও কমতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইরানের তেল রপ্তানির পরিমাণ বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুব বেশি না হলেও বাজারে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্টপ্যাকের অর্থনীতিবিদ লুকা বেলোব্রাজিক জানান, ইরানের মোট তেল রপ্তানি বিশ্বব্যাপী চাহিদার প্রায় ২ শতাংশের সমান হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। এটি বাস্তবায়িত হতে হলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও কার্যকর সমঝোতার ওপর নির্ভর করতে হবে। এদিকে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সম্ভাব্য ওই চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে নতুন করে কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের দাম আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :