
ধর্ষণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না। তাদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করলে সেই নেতাকেও একই মামলায় আসামি করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমার নিজের দলের নেতা হলেও কোনো ছাড় পাবেন না। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের প্রধান ভিত্তি।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যারা গোপনে দুর্নীতি করার চেষ্টা করেন, তাদেরও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। “রাষ্ট্রের এখন অনেকগুলো চোখ রয়েছে। আপনি যত গোপনেই দুর্নীতি করেন না কেন, তা সরকারের নজর এড়াবে না,” বলেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসাদুজ্জামান বলেন, সব শূন্যপদে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক তদবির সেখানে প্রভাব ফেলতে পারবে না।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিস করেন, অথচ অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে এখনও কর্মস্থলে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার অনীহা দেখা যায়। কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারিরা এখন ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
এ সময় তিনি কালীগঞ্জের আলোচিত শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত ৬০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :