
যানবাহনের কর ও ফি আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ২১ কোটি ৪২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে বিআরটিএ’র যানবাহন সংক্রান্ত সব ধরনের কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায়ের জন্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)-কে সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি লেনদেনে ৪৫ টাকা ৩৫ পয়সা হারে পাঁচ বছরে আনুমানিক ৪ কোটি ৫০ লাখ ট্রানজেকশনের জন্য ২০৪ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৪ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যোগ করে মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১৮ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যানবাহনের কর ও ফি আদায়ের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪৫ লাখ ট্রানজেকশন যুক্ত হয়েছে। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৪০ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
অর্থাৎ আগের চুক্তিমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত ২১ কোটি ৪২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় বাড়ছে, যা মোট চুক্তিমূল্যের প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ। এসব সেবা অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে এবং একই সঙ্গে কর ও ফি আদায়ের লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের কর ও ফি’র ওপর বিলম্বজনিত জরিমানা ছয় দফা মওকুফ করায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অনলাইনে বকেয়া পরিশোধ করেছেন। এর ফলে সার্ভিস প্রোভাইডারের লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন সেবা সম্প্রসারণের কারণে নাগরিক সুবিধা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :