
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের ওপর থেকে তরিকুল ইসলাম পাপন (২৮) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন থাকায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা তরিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তরিকুল ইসলাম পাপন রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
পথচারী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ইমন আহমেদসহ কয়েকজন পথচারী রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় একজন যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। উদ্ধারকারীরা জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাদের ধারণা, ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, নিহতের শরীরে ছুরিকাঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিহতের চলাফেরা ও ঘটনার আগে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড নাকি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :