নেপালের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
নেপালের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নেপালের স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য, সংযোগ, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) নেপালের স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল অনেক অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। পাশাপাশি সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের নিজস্ব উন্নয়ন যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়াল দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে খেলাধুলা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে ক্রীড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়েও আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ঝুঁকি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এছাড়া বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা ও কারিগরি বিষয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি Parliamentary Friendship Group-কে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।